শিরোনাম :
সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আপনাকে স্বাগতম। # সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সঙ্গেই থাকুন। -ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য মৃৎ শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে ‎যানজটে নাকাল লালমনিরহাটের শহরবাসী ইস্কাপ সিরাপ এবং গাঁজাসহ মোটর সাইকেল জব্দ তিস্তা নদীর পানি আবারও বিপদসীমার ১সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফেয়ারডিলসহ ১জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ৯৮ বোতল ফেনসিডিলসহ চার মাদক কারবারির ১০বছর কারাদণ্ড যুবকের মৃত্যু; মারধরের অভিযোগের পর আত্মহত্যার মামলা, রহস্য ঘনীভূত স্বর্ণকাতান শাড়ী ও গাঁজা এবং ইস্কাপ সিরাপ জব্দ
ওয়াপদা বাঁধের বেহাল দশা: চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন ধরলা নদী পাড়ের মানুষ

ওয়াপদা বাঁধের বেহাল দশা: চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন ধরলা নদী পাড়ের মানুষ

লালমনিরহাট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নীরব-

বর্ষা এলেই লালমনিরহাটের মানুষ আতঙ্কে চোখ রাখেন ধরলা নদীর দিকে। যে বাঁধ গড়ে তোলা হয়েছিল, সেই বাঁধই এখন ভরসার বদলে হয়ে উঠেছে ভয়ের কারণ। রক্ষণাবেক্ষণ আর সংস্কারের অভাবে লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট, কুলাঘাট ও বড়বাড়ী ইউনিয়নের ধরলা নদীর ওয়াপদা বাঁধটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় নদী ভাঙ্গনের কবলে প্লাবিত হতে পারে মোগলহাট, কুলাঘাট ও বড়বাড়ী ইউনিয়নসহ শত শত বিঘা জমি। জরাজীর্ণ ওয়াপদা বাঁধের কারণে নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে রাতের ঘুম কেড়েছে মোগলহাট, কুলাঘাট ও বড়বাড়ী ইউনিয়নবাসীর। কিন্তু প্রতি বছর ক্ষয়ে যাওয়া সেই বাঁধের দেহে বর্তমানে অর্ধশতাধিক গর্ত-হয়ে যেন এক জীর্ণ পাহারাদার মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ওয়াপদা বাঁধ। এতে লালমনিরহাট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন অনেকটাই নীরব।

‎স্থানীয়রা জানায়, ধরলা নদীর মোগলহাট, কুলাঘাট ও বড়বাড়ী ইউনিয়নের ওয়াবদা বাঁধটি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার পদক্ষেপ নেয়নি। লালমনিরহাট সদর উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষা মোগলহাট, কুলাঘাট ও বড়বাড়ী ইউনিয়নের লোকজন প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছে। ইতিমধ্যে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্লাবিত হতে পারে মোগলহাট, কুলাঘাট ও বড়বাড়ী ইউনিয়ন এবং শত শত বিঘা জমি।

‎স্থানীয়রা আরও জানায়, লালমনিরহাটের মোগলহাট ইউনিয়নের বুমকা (ছয়মাথা), কুলাঘাট ইউনিয়নের শিবেরকুটি এলাকায় ধরলা নদী ভাঙ্গনের আতঙ্কে আমাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সেই সাথে উক্ত এলাকায় ওয়াপদা বাঁধের বেহাল দশা। যেন দেখার কেউ নেই?

‎কুলাঘাট ইউনিয়নের চর খাটামারী গ্রামের এস এম হাসান আলী বলেন, ওয়াপদা বাঁধ দেখার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। ইতিপূর্বে বাঁধ ঠিক করেছিল এবং বর্তমানে ওয়াপদা বাঁধের বেহাল দশা, আমরা আতঙ্কে আছি।

বর্ষায় ভাঙে, শুকনো মৌসুমে নামমাত্র মেরামত হয়, আবার বর্ষায় ভাঙে। এই ধস ঠেকাতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় হলেও বাঁধের মান এতটুকু বাড়েনি বলে তাদের অভিযোগ। এবার বর্ষার শুরুতেই বাঁধের অন্তত পঞ্চাশটি স্থান ধসে পড়েছে। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, পানির উচ্চতা আরও বাড়লে এই গর্তগুলো দিয়ে অনায়াসে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে লালমনিরহাট শহর তলিয়ে যেতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী টেকসই সংস্কারের অভাবে বছরের পর বছর চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন ধরলা নদী পাড়ের মানুষ। এই চক্র ভাঙার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলেই বাড়ছে তাদের ক্ষোভ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাট কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াপদা বাঁধগুলো সংস্কারের দাবি উঠেছে।

‎প্রসঙ্গত, ধরলা নদী ভাঙ্গন রোধে মোগলহাট, কুলাঘাট ও বড়বাড়ী ইউনিয়নবাসীর সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ধরলা নদীর ওয়াপদা বাঁধ সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design & Developed by Freelancer Zone